সরকারি সম্পত্তি সুষ্ঠু নজরদারিতে ভূমি ডাটা ব্যাংক উদ্বোধন
চালু হলো দেশের প্রথম টেকসই ডিজিটাল ভূমি তথ্য ব্যাংক। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আধুনিক এ ব্যাংকের উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।
এসময় তিনি বলেন, এখন থেকে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভূমি নিয়ে ভোগান্তির অবসান হবে। ঘরে বসেই খাজনা দিতে পারবে ভূমির মালিক। সারা দেশের সরকারি সম্পত্তি সুষ্ঠু নজরদারিতে ভূমি ডাটা ব্যাংক ব্যবহার করা হবে। এতে সরকারি সম্পত্তির অবৈধ ব্যবহার ও দখলদারিত্ব কমে আসবে।
খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, ভূমি মন্ত্রনালয়ের সচিব মো.মোস্তাফিজুর রহমান, বিভাগীয় কমিশনার মো.ইসমাইল হোসেন, পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ভূমিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের এক পর্যায়ে ৪ কোটির উপর খতিয়ান অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে উল্লেখ করে বলেন ভূমি ব্যবস্থাপনায় এ ধরণের উদ্যোগের কারণে বর্তমানে ভূমি সেক্টরে অনেক স্বচ্ছতা এসেছে। এ সময় তিনি জলমহাল বরাদ্দ দেওয়ার বর্তমান ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন সিস্টেম উন্নয়নের কারণে এখন প্রকৃত মৎসজীবীরা নির্বিঘ্নে জলমহাল বরাদ্দ পাচ্ছেন ।
এসময় ভূমিমন্ত্রী সবাইকে একটু ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন আমরা টেকসই ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থা স্থাপনের চেষ্টা করছি যা কিছুটা সময় সাপেক্ষ। আমরা এমনভাবে সিস্টেম উন্নয়ন করার চেষ্টা করছি যেন তা ব্যক্তি-বিশেষের উপর নির্ভর না করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক গৃহীত রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে ভূমি মন্ত্রণালয় তার অংশ সফলভাবে বাস্তবায়ন করবে বলে ভূমিমন্ত্রী এ সময় দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জানাগেছে, শতভাগ খাসজমি চিহ্নিতকরণ, ছবিসহ খাসজমি, অর্পিত ও পরিত্যক্ত সম্পত্তি, সায়রাত মহাল-এর শক্তিশালী ডাটাবেজ তৈরি করে জনগণের জন্য তথ্য উন্মুক্তকরণসহ নথি আর্কাইভ করে ভূমি তথ্য ব্যাংক তৈরি করা হয়েছে। অনলাইন সফটওয়্যার ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে খাসজমি বন্দোবস্ত, জলমহাল, বালুমহাল ও হাটবাজার ইজারা প্রদান করে ই-ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে খুলনা জেলা প্রশাসন উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ভূমি সচিব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর ও ই-নামজারি দেশব্যাপী শতভাগ চালু করা সম্ভব হলে ৫০ শতাংশ সেবা গ্রহীতাদের ভূমি অফিসে যাতায়াতের প্রয়োজন হবেনা। তিনি বলেন খুলনা জেলা প্রশাসন যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তাতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন অধিকতর উপযোগী করে ভূমিমন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুত সারা বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, প্রায় ২ বছর ধরে ডেটাবেজ, আর্কাইভ, সফটওয়্যার এবং অ্যাপস তৈরি করার মাধ্যমে খুলনায় বাস্তবায়িত 'ভূমি তথ্য ব্যাংক' উদ্যোগটি একদিকে যেমন ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, খাসজমি রক্ষা, অর্পিত সম্পত্তির সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরকারি স্বার্থ রক্ষা করছে, অন্যদিকে সকল জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ভূমিসেবার নিশ্চয়তা দান করে সরকারের জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হচ্ছে। ভূমি সংক্রান্ত বিষয়ে দালাল চক্রের দৌড়ত হ্রাস পাওয়া সহ এ উদ্যোগের ফলে খুলনা জেলায় অর্পিত সম্পত্তি, পরিত্যক্ত সম্পত্তি, জলমহাল, হাটবাজার এবং খাস জমির ছবিযুক্ত তথ্য টেকসইভাবে সংরক্ষণ এবং সরকারি স্বার্থ রক্ষা করা সম্বল হয়েছে। এছাড়া উক্ত জেলায় বিভিন্ন উৎস থেকে রাজস্ব আদায়ের হার ক্ষেত্রবিশেষে ১৯ শতাংশ থেকে ২১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।